ওয়াহ্যাবি মতবাদ কি ও কারা

ওয়াহ্যাবি মতবাদ কি ও কারা
আমাদের দেশে প্রায় শোনা যায় ওয়াহ্যাবি(ওয়াহাবি) মুসলমানের কথা।আমাদের দেশের বিশেষ এক শ্রেণীর কওমী আলেমদেরকে এক শ্রেণীর আলেম ও তাদের অনুসারী সাধারন মুসলমানরা ওয়াহাবী বলে।আর এক শ্রেনীর আলেম নিজেদেরকে সুন্নি বলে পরিচয় দেয়।প্রথমে আমরা জানার চেষটা করি সুন্নি কথাটার অর্থ কি।সাধারন ভাবে বলতে গেলে যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ সুন্নত মেনে চলেন তারাই সুন্নি।


আসল ওয়াহাবি কে এবং কারা?


মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করে।সে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী ছিল ।সে আহলুসসুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত এবং তার নিজ আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার মুসলমানদের কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করত। ভিন্ন আকিদার মুসলমানদের মাল ধন সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়াকে হালাল ও তাদের হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ বলে ফতো্যা দিত।এই ওয়াহাবীরা তৎকালীন আমলে দলে এত ভারী ছিল যে তাদের হাতে হাজার হাজার খাটি মুসলমান শহিদ হয়েছিল।তাদের অত্যাচারে তৎকালীন সময়ে মক্কা মদিনার অনেক মুসলমান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।সেই থেকে আরব দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে ওয়াহাবী ও তার অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করা হয় ও ঘৃনা চোখে দেখা হয়।

ওয়াহাবীদের আকিদা বা মুলনীতি।


১/ওয়াহাবীরা এই আকিদা পোষন করে যে নবী রসুল গনের জীবন শুধু মাত্র ইহকাল পর্যন্ত সীমিত মৃত্যুর পর ওনারা অন্যান্য সাধারন মুসলমানদের মত কবরে বিলীন হয়ে যায়।(নাউযুবিল্লাহ)

তারা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।



২/ওরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের সমকক্ষ মনে করে।নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুধু মাত্র তাবলীগের কাজে পাঠানো হয়েছে।(নাউযুবিল্লাহ)



৩/নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক জিয়ারত করাকে বিদাআত ও হারাম বলে মনে করে।



৪/ এরা রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গায়েবী সালাম আস্সালাতু আস্সালামু আলাইকা বলা কে শিরক ও হারাম মনে করে।



৫/এরা মনে করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেবল শরিয়তী ইলম জানা ছিল বাতেনী ইলম জানতেন না।নাউযুবিল্লাহ।



৬/আত্তসুদ্ধি, সুফিয়াকেরামদের নিয়ম নীতি ,মুরাকাবা, পীর মুরিদিকে নাজায়েজ ও হারাম বলে।



৭/এরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরুদ সালাম দালায়েলুল, কাছিদাবুরদা পাঠানো অপছন্দনীয় কাজ বলে মনে করে।



৮/এরা নবীগন ও আউলিয়াগনের জীবন বৃত্তান্ত আলোচনাকে খারাপ মনে করে


৯/ওয়াহাবীরা নিজেদের আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার লোকদের কাফের বলে সম্বোধন করে।



১০/তারা অন্য আকিদার মুসলমানদের মাল সম্পদকে গনিমতের মাল মনে করে এবং তাদের ধন সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে হালাল মনে করে।



আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার দুটি ধারা আছে একটি আলিয়া আরেকটি কওমী।আলিয়া মাদ্রাসা সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে পরিচালিত হয়।ওখানে সরকার নির্দেশিত সিলেবাস অনুযায়ি পড়ানো হয়।আর কওমি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ জনগনের সহযোগিতায় পরিচালিত তাই এই মাদ্রাসাগুলি নিজস্ব সিলাবাসে পাঠদান করে।( মাদ্রাসা শিক্ষা দুই ধারা বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস আছে তা ইনশাআল্লাহ অন্য সময় আলোচনা করব)।আমাদের দেশের এক শ্রেণীর আলেম এই কওমী আলেমদেরকে ওয়াহাবী বলে সম্বোধন করে।কিন্ত বাস্তবে দেখা যায় এই কওমী আলেমরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সুন্নত পালন করেন।ওয়াহাবী আকিদার একটি আকিদাও কওমী আলেমদের মাঝে নাই।রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসার ব্যাপারে এবং উনার সুন্নত পরিপূর্ণ ভাবে পালনের ব্যাপারে কওমী আলেমগন সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।উনারা শুধু বাহ্যিক গত (পোষাক ,দাড়ি, কথা-বার্তা ইত্যাদি) সুন্নত নয় আভ্যন্তরীন (খাওয়া দাওয়া, ঘর-সংসার, তাহাজ্জুদের নামায ইত্যাদি) সুন্নতের ব্যাপারেও খুবই যত্নবান।কওমী আলেমগন বেশির ভাগই খুব সাধারন জীবন যাপন করেন।তারা রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ব্যাপার নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন না।ঠিক যতটুকু হাদিসে পাকে আছে ততটুকুই পালন করেন।নিজ হতে কোন কিছু বাড়ানোকে বিদাআত ও কোন কিছু কমানোকে হারাম মনে করেন।

{সুত্রঃ প্রসংগঃওয়াহ্যাবী কারা/ লেখকঃহযরত আল্লামা শাঃ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ)/ মাসিক মইনুল ইসলাম/ নভেম্বর- ২০০৮ }ফ



আমাদের দেশে প্রায় শোনা যায় ওয়াহ্যাবি(ওয়াহাবি) মুসলমানের কথা।আমাদের দেশের বিশেষ এক শ্রেণীর কওমী আলেমদেরকে এক শ্রেণীর আলেম ও তাদের অনুসারী সাধারন মুসলমানরা ওয়াহাবী বলে।আর এক শ্রেনীর আলেম নিজেদেরকে সুন্নি বলে পরিচয় দেয়।প্রথমে আমরা জানার চেষটা করি সুন্নি কথাটার অর্থ কি।সাধারন ভাবে বলতে গেলে যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ সুন্নত মেনে চলেন তারাই সুন্নি।

আসল ওয়াহাবি কে এবং কারা?

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করে।সে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী ছিল ।সে আহলুসসুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত এবং তার নিজ আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার মুসলমানদের কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করত। ভিন্ন আকিদার মুসলমানদের মাল ধন সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়াকে হালাল ও তাদের হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ বলে ফতো্যা দিত।এই ওয়াহাবীরা তৎকালীন আমলে দলে এত ভারী ছিল যে তাদের হাতে হাজার হাজার খাটি মুসলমান শহিদ হয়েছিল।তাদের অত্যাচারে তৎকালীন সময়ে মক্কা মদিনার অনেক মুসলমান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।সেই থেকে আরব দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে ওয়াহাবী ও তার অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করা হয় ও ঘৃনা চোখে দেখা হয়।


{সুত্রঃ প্রসংগঃওয়াহ্যাবী কারা/ লেখকঃহযরত আল্লামা শাঃ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ)/ মাসিক মইনুল ইসলাম/ নভেম্বর- ২০০৮ }



শিয়া-সুন্নি বিরোধ কেন? শিয়ারা কি আসলেই প্রকৃত মুসলিম?

শিয়া-সুন্নি বিরোধ কেন? শিয়ারা কি আসলেই প্রকৃত মুসলিম?
প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন হলো সুন্নি-শিয়াদের মধ্যে কেন এত বিরোধ লেগে থাকে? আর আমি অনেকের কাছেই শুনেছি- শিয়ারা রাসূল (সা.)কে নবী হিসেবে স্বীকার করেন না, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেল না? আল্লাহর পরেই তো রাসূলকে সম্মান করতে হবে? শিয়ারা কি আসলেই প্রকৃত মুসলিম?
রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এ প্রশ্নটি করেছেন মাহমুদুল হাসান খান





উত্তর: আপনার প্রশ্নগুলোর জন্য ধন্যবাদ। আসলে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ণনাগুলোর ব্যখ্যা নিয়ে মতভেদের কারণেই মুসলমানদের মধ্যে নানা মাজহাব বা মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে। এটি সব ধর্মের মধ্যেই দেখা যায়। এ জাতীয় মতভেদ কেবল তর্ক বা মত-বিনিময়ের পর্যায়ে সীমিত থাকলেই তা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু এ নিয়ে সহিংসতা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর বলে এ ব্যাপারে মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশি বা রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। 



আসলে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও অনেক মৌলিক বিষয়েই রয়েছে মতের মিল। যেমন, উভয় মাজহাবই এক আল্লাহ, অভিন্ন ধর্মগ্রন্থ তথা পবিত্র কুরআন এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানেন। উভয় মাজহাবই পরকালের প্রতি তথা পুনরুত্থান ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ও নারীদের পর্দা করা ফরজ হওয়ার বিষয়সহ আরো অনেক বিষয়েই একমত। এইসব বিষয়ের খুঁটিনাটি দিকে কিছু মতভেদ রয়েছে যা সুন্নি ভাইদের চার মাজহাবের মধ্যেও রয়েছে।



তবে শিয়া ও সুন্নি মাজহাবের মধ্যে মতবিরোধের একটা দিক হলো- বিশ্বনবী (সা.)'র পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত তথা খলিফা বা প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে। সুন্নি ভাইয়েরা মনে করেন এ বিষয়টি আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল মুসলমানদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন এবং সাহাবাগণ নির্বাচন পদ্ধতিতে খলিফা নির্বাচন করেছেন।

অন্যদিকে শিয়া মুসলমানরা মনে করেন, বিশ্বনবী (সা.)'র স্থলাভিষিক্ত তথা খলিফা বা প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি মহান আল্লাহই নির্ধারণ করেন ও তা রাসূল (সা.)-কে জানিয়ে দেন। আর এরই ভিত্তিতে হযরত আলী (আ.) এবং এরপর তাঁর বংশধরগণ ছিলেন মুসলমানদের প্রকৃত খলিফা।



তবে শিয়াদের সম্পর্কে একটি মারাত্মক মিথ্যা অভিযোগ তথা অপবাদ হলো তারা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে  নবী বা শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করেন না। বরং শিয়া মুসলমানরাও সুন্নি ভাইদের মতই মনে করেন যে, বিশ্বনবী (সা.)'র পর আর কোনো নবী আসবেন না এবং যারাই এ বিশ্বাস পোষণ করবে না তারা মুসলমান হিসেবে স্বীকৃত হবে না।



আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.)'র ভাষণ ও বক্তৃতামালার সংস্করণ 'নাহজুল বালাগ্বা' শিয়াদের জন্য শীর্ষস্থানীয় প্রামাণ্য বই। আল্লাহ ও বিশ্বনবী (সা.)'র বাণীর পরই এ বইকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তারা। আবার সুন্নি মুসলমানের কাছেও এটি একটি নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য বই। এ বইয়ে স্বয়ং আলী (আ.) থেকে বার বার বলা হয়েছে যে রাসূল (সা.) ছিলেন সর্বশেষ নবী। দৃষ্টান্ত হিসেবে এ বইয়ে উল্লেখিত আলী (আ.)'র ৭১ ও ২৩৩ নম্বর খোতবা দেখুন (সাইটে এ দুই খোতবার ফটোকপি সংযুক্ত করা হল)।  তাই শিয়ারা রাসূল (সা.)-কে নবী ও রাসূল বলে মানেন না- এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে প্রচারিত একটি অপবাদ।



শিয়া মুসলমানরা যে কোনো সমাবেশে কিংবা একা থাকলেও বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরুদ পাঠ করে সম্মান প্রদর্শন করেন তাঁকে ও এমনকি তাঁর আহলে বাইতকেও। 

 এ ছাড়াও শিয়া মুসলমানরা বিশ্বনবী (সা.)'র নবুওত প্রাপ্তির দিবসকে উৎসব হিসেবে পালন করে থাকেন।



শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তারা যুগ যুগ ধরে পরস্পরের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করে এসেছে। তাদের মধ্যে বড়জোর জ্ঞানগত তর্ক-বিতর্ক বা যুক্তি বিনিময় হতো। আসলে ইসলামের শত্রুরাই মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির জন্য শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে সহিংস দাঙ্গা বাধানোর জন্য সুন্নি নামধারী একদল ওয়াহাবিকে উস্কে দিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। এই ওয়াহাবিদের দৃষ্টিতে সুন্নিদের চার মাজহাবের তিন মাজহাবের ইমামগণ এবং তাদের অনুসারীরাও কাফির ও হত্যার যোগ্য! আপনারা হয়তো জানেন যে ভারত বর্ষে মোঘল শাসকদের অনেকেই ছিলেন শিয়া মুসলমান। নবাব সিরাজউদদৌলাও ছিলেন শিয়া মুসলমান। দানবীর ও ভারত বর্ষে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্পদ ওয়াকফকারী মহান ব্যক্তিত্ব হাজি মুহাম্মাদ মুহসিন ছিলেন একজন শিয়া মুসলমান। ভারতবর্ষ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনসহ উপনিবেশবাদী কাফির শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।



বর্তমান যুগে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ থেকে মুসলমানদের দৃষ্টি আড়াল করতে এবং মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদ উস্কে দিয়ে তাদেরকে সহজেই শোষণ করার জন্য দেশে দেশে শিয়া-সুন্নি বিভেদ উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে সাম্রাজ্যবাদীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় এ ধরনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে আলকায়দা বা আইএসআইএল-এর ওয়াহাবি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে। কিন্তু এই দুই দেশের শিয়া ও সুন্নি আলেমগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ওয়াহাবি ও বিজাতীয় শক্তিকে মোকাবেলার আহ্বান জানানোর পর সন্ত্রাসীরা শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের সম্মিলিত শক্তির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।



ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান রূপকার ইমাম খোমেনী (র.)ও বলেছেন, যারা মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নির নামে অনৈক্য সৃষ্টি করে তারা শিয়াও নয়, সুন্নিও নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল। #              





 রেডিও তেহরান/এএইচ/এআর/১৮

গ্রামীণফোনে পাচ্ছেন ইমার্জেন্সি ইন্টারনেট ব্যালেন্স!

গ্রামীণফোনে পাচ্ছেন ইমার্জেন্সি ইন্টারনেট ব্যালেন্স!
আপনার গ্রামীণফোন মোবাইলের ডেটা এবং একাউন্টের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেছে? জরুরী ভিত্তিতে ইন্টারনেট এক্সেস করা দরকার? এবার জিপি নিয়ে এলো ইমার্জেন্সি ইন্টারনেট ব্যালান্স সার্ভিস যার মাধ্যমে জরুরী মুহুর্তের প্রয়োজন মেটানোর জন্য লোন পাবেন ১০ মেগাবাইট ডেটা। এক্ষেত্রে *১০১০*২# ডায়াল করলেই পাচ্ছেন ১০ এমবি ইন্টারনেট!



শর্তাবলি

*১০১০*২# ডায়াল করলেই পাচ্ছেন ১০ এমবি ইমার্জেন্সি ইন্টারনেট ব্যালান্স
এই সার্ভিসটি শুধুমাত্র গ্রামীণফোন প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য
অফারটি নিতে গ্রাহককে *১০১০*২# ডায়াল করতে হবে
এই অফারটি নেওয়ার জন্য গ্রাহকের একাউন্ট-এ ব্যালান্স ১ টাকা বা তার চেয়েও কম থাকতে হবে এবং কোনো ডেটা ভলিউম থাকা যাবে না
রিচার্জ-এর ক্ষেত্রে ভয়েস ইমার্জেন্সি ব্যালান্স-এর প্রাপ্য টাকা আগে কাটা হবে। দুটো ইমার্জেন্সি ব্যালান্স-এর প্রাপ্য টাকা কাটার পরই কেবল গ্রাহক প্রধান একাউন্ট-এ ব্যালান্স পাবেন
এই ১০ এমবি ডাটা’র মূল্য ৫ টাকা। লোন এর মেয়াদ ২ দিন। ডেটার মূল্য গ্রাহকের পরবর্তী রিচার্জ থেকে কাটা হবে।
৫ টাকার মধ্যে ৩% সম্পূরক শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্কসহ মূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট অর্ন্তভুক্ত
আরও জানতে ১২১ এ কল করুন।

বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!
রাশিয়াতে দুই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা হয়তো কেউ চিন্তাও করতে পারবেনা । প্রায় এক মাস আগে রাশিয়ার একটি সাফারি পার্কে আমুর নামের একটি বাঘকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল একটি জ্যান্ত ছাগল। 




কিন্তু ওই ছাগলকে না খেয়ে বাঘটি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পেতে বসেছে। এখন আমুর নামের ওই বাঘ ও তিমুর নামের ওই ছাগলটি পরস্পরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এমনকি বন্ধু ছাগলের জন্য নিজের ঘুমানোর জায়গাটিও ছেড়ে দিয়েছে বাঘটি। ওই চিড়িয়াখানায় আমুর ও তিমুর অর্থাৎ বাঘ ও ছাগল এখন বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গেই ঘুরে বেড়ায়। একসাথে ঘুমায়। বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এখন এই বাঘ ও ছাগলকে একসঙ্গেই রাখছে। চিড়িয়াখানায় আসা দশনার্থীরা অবাক হচ্ছেন হিংস্র পশু বাঘের সঙ্গে ছাগলকে ঘুরতে দেখে। বাঘে-ছাগলের বন্ধুত্বের ভক্ত হয়ে গেছেন অনেকে। তারা রীতিমতো এদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। ওয়েবক্যামের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সরাসরি দেখছেন এই বিরল বন্ধুত্বের দৈনিক কর্মকান্ড। এই দুজনের নামে ফেইসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে খোলা হয়েছে অ্যাকাউন্ট। বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!


তিন বছর ধরে চিড়িয়াখানায় থাকা আমুর বাঘকে সপ্তাহে দুইবার জ্যান্ত ছাগল খেতে দিতে হতো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে। বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা সারাহ রেইনসফোর্ড ওই চিড়িয়াখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভের সাথে কথা বলেছিলেন। মি: মেজেনস্তেভ বলছিলেন “প্রায় তিন বছর ধরে আমুর এই চিড়িয়াখানায় আছে। সপ্তাহে দুইদিন তাকে ছাগল খেতে দিতে হতো। আমরা একদিন তাকে তিমুর নামের ওই ছাগলকে খেতে দিই। কিন্তু চারদিন পর দেখি বাঘটি তিমুরকে খায়নি। এটা খুবই বিস্ময়কর একটা ঘটনা”। বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

বাঘটি তিমুর নামের ছাগলটিকে চার দিনেও খায়নি, এখনও তারা একসঙ্গেই থাকে। “বাঘটা এতটা ক্ষুধার্ত ছিল সে কয়েক সেকেন্ডে তিমুরকে খেয়ে ফেলতে পারতো। কিন্তু এটা তিমুরেরই সাহসিকতা সে বাঘটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পেতেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেরকে আলাদা করবোনা, একসাথেই রাখবো”-বলেন চিড়িখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভ। তিনি আরও বলেন “এদের সম্পর্ক দেখে মানুষেরও শেখার কিছু রয়েছে । বিশ্বে যেসব যুদ্ধ হানাহানি চলছে, মানুষ যদি মানবিক হতে শেখে তাহলে নিরীহ প্রাণগুলো বেঁচে যেত”।

গোসলে সাবান ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর !

গোসলে সাবান ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর !

আপনি রোজ গোসল করেন অনেকটা সময় ধরে। রোজ গায়ে দামি অথবা মাঝারি দামের সাবানও মাখেন?


এই নিয়ে আপনার গর্বের শেষ নেই? সবার মাঝে ফলাও করে বলেন, আপনি কত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন?

আপনি ভাবেন এর জন্য আপনার ত্বক কত ভাল থাকবে? আপনি কত সুন্দর এবং টানটান হয়ে থাকবেন অনেক বয়স পর্যন্তও!

এক দম ভুল ভাবছেন। ইউরোপের ডাক্তাররা কিন্তু একেবারে ভিন্ন সুরে কথা বলছেন।

তাদের বক্তব্য, গোসল রোজ করছেন এটা খুবই ভাল। কিন্তু যে সাবান দিয়ে আপনি রোজ ঘসে ঘসে গা পরিষ্কার করছেন, চকচকে হচ্ছেন, সেটা কিন্তু মোটেই ভাল নয়।

সাবান মানেই ক্ষার। সেটা কম মাত্রা অথবা বেশি মাত্রা হতে পারে। কিন্তু রোজ আপনার শরীরে খার গেলে তা আপনার শরীরকে মোটেই চিরকাল ভাল রাখবে না। যার সুফল আজ টের পাচ্ছেন, তার অনকে বেশি কুফল কাল টের পেতে চলেছেন।

তাদের পরামর্শ গায়ে মাটি মাখুন। ত্বক আজও ভাল থাকবে। আগামীতেও ভাল থাকবে। মাটির থেকে ভাল গায়ে মাখার আর কিছু নেই। কিন্তু আপনি কি এখনই এসব মানবেন?

পাসওয়ার্ড হ্যাক হলেও ফেসবুক আইডি কখনো হ্যাক হবেনা !

পাসওয়ার্ড হ্যাক হলেও ফেসবুক আইডি কখনো হ্যাক হবেনা !
বর্তমান সময়ে ফেসবুক এখন অনেক স্পর্শকাতর বিষয় অনেকের জন্য। নানা ধরনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সমৃদ্ধ আপনার ফেসবুক একাউন্টটি যদি হ্যাক হয়ে যায় আপনার এর থেকে বড় বিপদ আর কি হতে পারে বলুন? হ্যা আজ জানবেন কিভাবে আপনি আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড হ্যাক হলেও আইডি রক্ষা করতে পারবেন।


– আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড যদি সবাই জেনে যায়, তাহলেও কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? না এটি বাস্তব, তবে এর জন্য প্রথমে আপনাকে যা করতে হবে, ফেসবুকে লগইন করে ওপরে ডান পাশে Home এর পাশে অ্যারোতে ক্লিক করে Account Settings-এ ক্লিক করুন।

– এবার এখানে বাঁ পাশ থেকে ক্লিক করুন। এখন এর ডান পাশ থেকে ক্লিক করুন। তারপর এই ঘরে টিক চিহ্ন দিন। টিক চিহ্ন দেয়ার সময় নতুন একটি বার্তা এলে ক্লিক করুন।

– এখন বক্সে আপনার মোবাইল নম্বর লিখে Continue তে ক্লিক করুন।

– আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে। কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Submit Code বাটনে ক্লিক করে Close-এ ক্লিক করুন।

– Login Notifications-এর ডান পাশ থেকে edit-এ ক্লিক করে Email এবং Text message বক্সেও টিকচিহ্ন দিয়ে Save-এ ক্লিক করে রাখতে পারেন। এতে ইমেইলে আপনার কোড সেন্ড হবে।

– এখন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগআউট করে পুনরায় আবার ফেসবুকে লগইন করুন। দেখবেন Name New Device নামে একটি পেজ এসেছে। সেখানে Device name বক্সে কোনো নাম লিখে Save Device-এ ক্লিক করুন।

ব্যাস হয়ে গেলো! এখন থেকে থেকে প্রতিবার আপনার কম্পিউটার ছাড়া অন্য কারও কম্পিউটার থেকে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করতে চাইলে আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে এবং সেই কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Continue তে ক্লিক করলেই আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে। কাজেই আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড সবাই জানলেও কেউ আপনার ফেসবুকে লগইন করতে পারবে না।

পাসওয়ার্ড জানলেও আর হ্যাক হবে না আপনার মুল্যবান জিমেইল অ্যাকাউন্ট !

পাসওয়ার্ড জানলেও আর হ্যাক হবে না আপনার মুল্যবান জিমেইল অ্যাকাউন্ট !


জিমেইলের পাসওয়ার্ড যদি সবাই জেনে যায়, তাহলেও কেউ চাইলেও আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। এর জন্য প্রথমে জিমেইল লগইন করে ওপরে ডানপাশে আপনার ছবির আইকনে ক্লিক করে তারপর My Account-এ ক্লিক করুন বা সরাসরি https://myaccount.google.com ঠিকানায় যান। তারপর Sign-in & security-তে ক্লিক করুন। নতুন পেজ এলে একটু নিচে ডানপাশে 2-step verification: off-এ ক্লিক করুন।


তারপর Start Setup বাটনে ক্লিক করুন। পুনরায় আবার লগ-ইন করার পেজ এলে লগইন করুন। এখন Phone number: বক্সে আপনার মোবাইল নম্বর লিখে Send Code বাটনে ক্লিক করুন। আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে। কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Verify-এ ক্লিক করুন। এখন Next-এ ক্লিক করুন। তারপর Confirm-এ ক্লিক করুন।

এখন থেকে প্রতিবার আপনার কম্পিউটার ছাড়া অন্য কোনো কম্পিউটার থেকে আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টে লগইন করতে চাইলে আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে এবং সেই কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Verify-এ ক্লিক করলেই আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে। আপনার ফোন নম্বর যদি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে যেকোনো সময় আপনার কম্পিউটার থেকে জিমেইলে লগইন করে ফোন নম্বর পরিবর্তন করতে পারবেন বা এই সুবিধা বাদ দিতে পারবেন।

অনেক সময় মোবাইলে এসএমএসের সাহায্যে কোড আসতে দেরি হতে পারে। এ জন্য চাইলে Google Authenticator নামের একটি অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন। এসএমএসে কোডের বাইরে এ অ্যাপে ৩০ সেকেন্ড পরপর একটি কোড আসবে। সেটি দিয়েও চাইলে Verify করতে পারবেন। তবে আপনি এসএমএস কোড না অ্যাপের মাধ্যমে আসা কোড ব্যবহার করবেন, তা শুরুতে নির্বাচন করে নিতে হবে। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস দুই সংস্করণেই পাওয়া যাবে।

ফেসবুকে আমরা যে Poke করি, এর মানে কি জানেন ?

ফেসবুকে আমরা যে Poke করি, এর মানে কি জানেন ?
আজকের দিনে ফেসবুক এমন এক জিনিসে পরিনত হয়েছে যা ফেসবুক ছাড়া অনেকের পেটের ভাত হজম হয় না।সারাদিন সুধু ফেসবুক আর ফেসবুক। আজকে এই ফেসবুক এর একটা ফিচার নিয়ে আলোচনা করবো আর সেটা হল poke. আমরা যারা ফেসবুক ব্যবহার করি বা অ্যাকাউন্ট আছে তারা সবাই কম বেশি এই ফিচার সম্পর্কে জানি তবে অনেক এটি ব্যবহার করে আবার অনেকে করে না।

কিন্তু কথা হল আমরা সবাই এই পোক মানে জানি যে কউকে বিরক্ত করা বা গুতা মারা যেটা একদমই ঠিক নয়। poke একটা ফেসবুক এর গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। আসলে পোক দিয়ে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়। আপনি যদি কাউকে poke করেন আর আপনি জাকে poke করলেন সে যদি poke back করে তাহলে আপনি তার ফেসবুক প্রোফাইল এবং পেজ ৩ দিন এর জন্য দেখতে পারবেন। এখন হয়তো অনেকে ভাবতে পারেন আমিতো এমনিতে

এটা করতে পারি। কিন্তু না এটার দরকার আছে বা কি কাজে লাগে তা বলতেছি।

মনে করেন কেউ একজন আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট এ নাই বা তাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে কিন্তু সে

আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট এ না থাকার কারনে তার সম্পর্কে জানতে পারছেন না বা তার ইনফর্মেশন

দেখতে পারছেন না বা জানতে পারছেন না। তখন তার সম্পর্কে জানার একটাই উপায় আছে আর সেটা হল poke মারা।

আপনি যদি তাকে poke মারেন আর সে poke back করে তাহলে আপনি তার প্রোফাইল এবং পেজ ৩ দিন এর জন্য দেখতে পারবেন এবং দেখে আপনার পরিচিত হলে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট করতে পারবেন। তাহলে বুঝলেন তো poke এর মানে বা এর কাজ কি।

ফেসবুকে তারকা হতে চান? এজন্য আপনাকে যা করতে হবে!

ফেসবুকে তারকা হতে চান? এজন্য আপনাকে যা করতে হবে!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং ইতোমধ্যে এটি গুগলকে পেছনে ফেলে এলেক্সা রাংঙ্কিংয়ে এক নম্বরে চলে এসেছে। ফেসবুকের ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যে ব্যবহারকারীরা খুব সহজে এটা ব্যবহার করতে পারবেন। ফেসবুকে নিজের পরিচিতি বাড়াতে আপনি কী করে থাকেন? একটার পর একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে লাগাম ছাড়া বন্ধুর তালিকা তৈরি করেন। না কি সমস্ত বন্ধুর সঙ্গে লাগাতার চ্যাট করেই সারাটা দিন কাটিয়ে দেন। মনে মনে হয়তো ভাবছেন আপনার হাজারো বন্ধুর কাছে এতেই আপনি মোস্ট ফেমাস। কিন্তু মোটেও তা নয়। বরং অপরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে অহেতুক চ্যাট করেন বলে আপনার পিছনে বন্ধুরা আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, সেই সুযোগটাই বেশি। ফেসবুকে জনপ্রিয় হতে চাইলে মাথায় রাখতে হবে বেশ কিছু জিনিস।

ফেসবুক তারকা হয়ে ওঠার জন্য এগুলো আপনাকে মেনে চলতেই হবে


১. ভেবেচিন্তে বন্ধুত্ব করুন


সুন্দর প্রোফাইলের কাউকে খুঁজে পেলেন, আর অমনি তাঁকে বন্ধু বানানোর সংকল্প নিয়ে নিলেন। সেই মহিলা বা পুরুষ আপনার বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপনিও ছাড়ার পাত্র নন। একবারে না হলে বারবার অনুরোধ পাঠাতেই থাকেন? এতে কিন্তু হিতে বিপরীত হয়। জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টায় আপনি মজার খোরাক হয়ে উঠতে পারেন।

২. শুধুমাত্র লাইকই যথেষ্ট নয়


অনেকেই আছেন যাঁরা বন্ধুদের সমস্ত পোস্টেই লাইক দেন। এমনকী যদি পোস্ট মনের মতো না-ও হয়। এর থেকে ভাল হতো পোস্টটির সম্পর্কে নিজের মতামত জানালে। এতে যেমন আপনার চিন্তা ভাবনা বন্ধুদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। তেমন বন্ধুরাও খুশি হবেন।

৩. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন


কোথায় কোন ফিল্মটা চলছে বা কোন দেশে সন্ত্রাস হামলা চলছে। নিজেকে আপ টু ডেট রাখার সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুদেরও খবর জানাতে থাকুন। পোস্টে লিখে দিন সেই বিষয়ে আপনার মতামতও। এতে জনপ্রিয়তা বাড়তে বাধ্য। তবে অবশ্যই বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে চলাই ভাল।

৪. প্রোফাইল পিকচার নির্বাচনের আগে ভাবুন


আপনার প্রথম আকর্ষণ কিন্তু আপনার প্রোফাইল পিকচার। নিজেকে কেমন ভাবে উপস্থাপন করতে চান তা অনেকটাই কিন্তু নির্ভর করে এই প্রোফাইল পিকচারের উপরে। তাই এই ক্ষেত্রে একটু ভেবেচিন্তে বাছাই জরুরি।

৫.অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসুন


বন্ধু হোক বা পরিচিত— বিপদে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। যেমন, কারও যদি জরুরিকালীন রক্তের প্রয়োজন হয়। ফেসবুকে সেই বার্তা বন্ধুদের জানান। বন্ধুদের মধ্যে থেকেই দাতা পেয়ে যাবেন। আর বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাবাসিও পাবেন।

৬. অবশ্যই যেটা করতে ভুলবেন না


সবই তো হল। বন্ধুর জন্মদিন বা বিবাহ বার্ষিকীকে অভিনন্দনটাও জানিয়ে ফেলেছেন তো। তা না করলেই কিন্তু সারা বছর এত খাটাখাটুনির পুরোটাই মাটি। বন্ধুদের অভিনন্দন জানানোটা কিন্তু জরুরী। তাহলে আর দেরি কিসের? আজ থেকেই মেনে চলুন আর ফেসবুক জনপ্রিয় হয়ে যান।

বিজ্ঞানের নতুন বিস্ময় ! স্থাপনা তৈরিতে সবুজ ইট

বিজ্ঞানের নতুন বিস্ময় ! স্থাপনা তৈরিতে সবুজ ইট


বাড়ি বা স্থাপনা তৈরির জন্য কাদা-মাটির ইট ব্যবহারের কথা অদূর ভবিষ্যতে রূপ কথার গল্পের মতোই শোনাবে। কারণ, বায়োম্যাসোন নামের একটি প্রতিষ্ঠান বালি, ব্যাকটেরিয়া এবং এই ব্যাকটেরিয়াকে দেয়া প্রয়োজনীয় পুষ্টির সাহায্যে পরিবেশবান্ধব অভিনব ইট তৈরি করার এক অনন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

জৈবপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যবসায় উদ্যোগ বায়োম্যাসোন পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান।

প্রাকৃতিক উপায়ে ভবন ও নির্মাণ শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এই প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অণুজীব এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জৈব-সিমেন্টভিত্তিক স্থাপত্য নির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বায়োম্যসোন কোটি-কোটি অণুজীবের সাহায্যে ভবন নির্মাণে অসাধারণ এক প্রকার ইট উৎপাদন করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর উত্তর-ক্যারোলিনাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিঞ্জার দোসিয়ে প্রবাল প্রাচীর নিয়ে গবেষণাকালে ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন প্রক্রিয়ার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

বায়োম্যাসোন প্রক্রিয়ায় ইট উৎপাদনে প্রাথমিক স্তরে বালির প্রয়োজন হয়। প্রথমে এই বালিকে ইট আকৃতির একটি ছাঁচে রাখা হয়। তারপর এই বালিতে বিশেষ উপায়ে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার মিশ্রণ ঘটানো হয়। বালিতে থাকা ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে দেয়া হয় জল-মিশ্রিত ক্যালসিয়াম আয়ন। এই আয়নগুলি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরে আকৃষ্ট হলে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট শেল তৈরি হয়। এতে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিস্টালে রূপান্তরিত হয়। আর এভাবেই তৈরি হয়ে যায় অসামান্য বায়োম্যাসোন ইট।

এই প্রক্রিয়ায় একটি ইট তৈরি হতে সময় লাগে ২ থেকে ৫ দিন। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতিতে ভাঁটায় তৈরি করতে একটি ইটের তিন থেকে পাঁচ দিন সময়ের প্রয়োজন।

এই অভিনব পদ্ধতিতে ইট উদ্ভাবনকারী দোসিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন ইট তৈরি করতে পারি যা রাতের অন্ধকারে জ্বল-জ্বল করে, পরিবেশের দূষণ শোষণ করে এবং ভেজা অবস্থায় রঙ পরিবর্তন করতে পারে।’

এই প্রক্রিয়ায় ইট উৎপাদন করতে জ্বালানির দরকার হয় না বলেও দোসিয়ে জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ হচ্ছে, ক্রেতাদের এই ইট উৎপাদনে সক্ষম করে তোলা যাতে করে তারা নির্মাণাধীন এলাকাতেই এটি তৈরি করতে পারেন। এ জন্য আমরা এর পাউডার বা সিরাপ সংস্করণের কথা ভাবছি। এতে করে এই ইট তৈরি করতে ক্রেতাদের শুধু জল মিশ্রণ করতে হবে। আর তাতেই তৈরি হয়ে যাবে বায়োম্যাসোন ইট।’

যেসব কারণে ফেসবুক থেকে দূরে সরে থাকা আপনার জন্য দুস্কর !

যেসব কারণে ফেসবুক থেকে দূরে সরে থাকা আপনার জন্য দুস্কর !


মনে মনে ভাবছেন ফেসবুকে মগ্ন থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বহু সময়! আর তাই ফেসবুক থেকে দূরে সরে থাকার কথা ভাবছেন? কিন্তু, কিছুতেই তা পারছেন না। মন চলে যাচ্ছে সেই সেখানেই। কোনও না কোনও অছিলায় খুলে বসছেন ফেসবুক। কিন্তু কেন ? এ নিয়ে গবেষকদের কিছু মতামত রয়েছে।

সেই কারণগুলির জন্যই নাকি চাইলেও অনেকে ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে পারেন না।


গবেষকদের মতে, আসক্তি হল যে কোনও জিনিস থেকে দূরে না থাকতে পারার অন্যতম কারণ। তাই কোনও জিনিসের প্রতি আসক্ত না হয়ে পড়াই ভালো। আর এই অতি মাত্রায় আসক্তির জন্যই কেউ কেউ ফেসবুকের নেশা ত্যাগ করার কথা ভেবেও পেরে ওঠেন না।

ফেসবুকের মাধ্যমে নজর রাখা যায় অনেকের উপর। সমাজে ঘটে যাওয়া বহু বিষয়ে অন্যদের ধারণা জানা যায়। যাঁরা ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছেন জানা যায় তাঁদের অ্যাক্টিভিটিস। চোখে পড়ে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার খবরও।

ফলে আপ টু ডেট থাকা যায়। তাই চাইলেও অনেকেই এড়িয়ে যেতে পারেন না এই সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটটি।

আর ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকেই পুরনো বন্ধু ফিরে পাওয়ার পাশাাপাশি পাতিয়ে ফেলেন নতুন বন্ধুত্ব। ওই সাইটের মাধ্যমেই ম্যাসেজ করে চ্যাটিং করে নেওয়া যায়। ভালো থাকে মুড।

তাই বন্ধুদের সংস্পর্শে থাকতে ফেসবুক ছেড়ে যেতে পারেন না অনেকেই।

ফেসবুকের পাসওয়ার্ড এখন আপনি চাইলেও আর গোপন করতে পারবেন না !

ফেসবুকের পাসওয়ার্ড এখন আপনি চাইলেও আর গোপন করতে পারবেন না !


দৈনন্দিন ব্যাবহারের নানা ধরনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সমৃদ্ধ আপনার ফেসবুক একাউন্টটির পাসওয়ার্ড যদি কেউ জেনে যায় তবে কি করবেন ? এই কথা শুনে অনেকটাই আঁতকে উঠেছেন তাই না । তবে হ্যাঁ, সত্যিই এবার আপনি চাইলেও আর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড গোপন রাখতে পারবেন না ! এখন বাংলাদেশ সরকার চাইলেই সন্দেহভাজন যে কারও ফেসবুকে লগইন করতে পারবে।


সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি হামলার ঘটনার পর নাশকতাকারীরা ফেসবুক ব্যবহার করে তাদের আইডিগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি সরকারের সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এখন থেকে আইডি নিষ্ক্রিয় করা হলেও সংশ্লিষ্ট ফেসবুকের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যাবে। এজন্য আনা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী ও সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের যে সক্ষমতা আছে তা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আধুনিক বিশ্ব যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সন্ত্রাস দমন করে, তেমনটি বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে। আধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন, নানা ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তৈরি করাসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্যই ঢেলে সাজানো হচ্ছে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। তিনি বলেন, ‘সরকার এখন ইচ্ছা করলেই যে কারও ফেসবুকে প্রবেশ করতে পারবে। আশার কথা হচ্ছে, এখন এ ধরনের প্রযুক্তি আমাদের হাতে এসেছে। তবে আমাদের টার্গেট তারাই যারা অপরাধ করবে।’

জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যপ্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হামলা ও নাশকতার ঘটনায় গোয়েন্দারা সাইবার সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। গোয়েন্দাদের সুপারিশের পর সরকার তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলোকে আরও নজরদারি করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান, অবকাঠামো নির্মাণ, মনিটরিং সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার বরাদ্দও দেয়।

আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গুলশানে ২৮ সেপ্টেম্বর ইতালি নাগরিক সিজারি তাভেল্লা ও এর চারদিন পর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যার পর কয়েকটি বিষয় সামনে চলে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- যারা বিভিন্ন ধরনের হত্যাচেষ্টা, হত্যা বা হুমকি দিচ্ছে এরা বেশির ভাগ সময় সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। অপরাধী চক্রের সদস্যরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালায়। নাশকতাকারীরা সামাজিক মাধ্যম, ব্লগ ও বিভিন্ন ওয়েবপেজে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং পরামর্শ সভাও করে। এসব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনতে তথ্যপ্রযুক্তির নজরদারি বাড়ানোর ওপর গোয়েন্দারা সরকারের কাছে সুপারিশ করেন। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নতুন প্রজন্মের এসব সাইবার সন্ত্রাস মোকাবেলায় সরকার প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ফেসবুক নজরদারি করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে মনিটরিং সুবিধা প্রদান, টেলিযোগাযোগ খাতের উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবেলা, টেলিযোগাযোগ অ্যাপ্লিকেশন/সফটওয়্যারের অপব্যবহার এবং সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) গঠন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের একটি সুত্রে জানা যায় , বর্তমানে  সাইবার অপরাধীরা মনে করছে যেহেতু মোবাইলে একে অপরের সাথে কথা বললে বা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করলে আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের নাশকতার তথ্য সহজেই জানতে পায়। তাই তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুলোতে নিজেদের মধ্যে ক্লোজ গ্রুপে কৌশলগত নানা ধরনের শলাপরামর্শ করে।

এ ধরনের সাইবার অপরাধীদের নিষ্ক্রিয় করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখন যদি তারা ফেসবুক যাবতীয় তথ্য নিষ্ক্রিয় করে দেয় এর পরেও তথ্য উদ্ধার করা যাবে। আগেও কিছু তথ্য উদ্ধার করা গেলেও এখন পুরোপুরি তথ্যই উদ্ধার করা সম্ভব। এর সাথে প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এখন যে কারও ফেসবুকে প্রবেশ করার মতো সক্ষমতা রয়েছে সরকারের।

ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ।

ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ।


বেধিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের ওপর নির্ভর করে থাকেন। আমেরিকার একটি সমীক্ষার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জি-নিউজ। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, যারা যতবেশি পরিমাণে ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন তারা ততবেশি নির্ভর করেন ফেসবুকের ওপর।


অ্যাক্রন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ১৮ থেকে ৬৮ বছর বয়সী ৩০১ জন ব্যবহারকারীর ওপর সমীক্ষাটি চালান। সেই ব্যবহারকারীর বেশিরভাগই ফেসবুক ব্যবহার করেন ডেট করার জন্য, খবর জানতে, গেম খেলতে, কোনও নতুন ফটো দেওয়ার পর সেই ব্যপারে বন্ধুদের মতামত জানতে। গবেষকদের মত অনুসারে যারা এই সমস্ত কারণের জন্যই ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন তারা ফেসবুকের ওপর খুব বেশি নির্ভর করে থাকেন।

একজন গবেষকের মতে, ‘যে সমস্ত মানুষের আত্মবিশ্বাস কম থাকে তারাই সব থেকে বেশি ফেসবুক করে থাকেন। তারা নিজেদের অনেক কম বোঝেন তাই কোন ড্রেসে তাকে কেমন লাগল তা বন্ধুদের কথার ওপরে নির্ভর করে বুঝে নেন। কোনো বন্ধু যখন ভালো কমেন্ট করে তখন তাদের বিশ্বাস বেড়ে যায় এবং যখন খারাপ কমেন্ট করেন তখনই তাদের বিশ্বাস কমে যেতে শুরু করে।

শব্দহীন অ্যালার্ম ঘড়ি !

শব্দহীন অ্যালার্ম ঘড়ি !

পৃথিবীতে বিরক্তিকর যে কয়টি বিষয় রয়েছে, হয়তো তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘অ্যালার্মের কর্কশ আওয়াজ।’ যত মধুর আওয়াজই ঠিক করে রাখা হোক না কেন, সকালে ঘুম ভাঙার সময় তা কখনই মধুর মনে হয় না। আর তাই হয়তো তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধারার অ্যালার্ম ঘড়ি সেন্সরওয়েক যা কোনো আওয়াজ বা শব্দ না করেই ঘুম ভাঙাতে পারবে।


আওয়াজের বদলে গন্ধের সাহায্যে ঘুম ভাঙাবে সেন্সরওয়েক। না বাজে কোনো গন্ধ নয়, ভালো গন্ধের মাধ্যমেই ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করবে ভিন্নধারার এই অ্যালার্ম ঘড়িটি। বর্তমানে সেন্সরওয়েক-এ কফি, চকোলেট বা পেপারমিন্ট ইত্যাদি ছয় ধরনের সুগন্ধ রয়েছে।

যে সময়ে উঠতে ইচ্ছুক, সে সময়টি ঠিক করার পাশাপাশি ‘অ্যালার্ম টোন’ ঠিক করার মতো করে ‘অ্যালার্ম সেন্ট’ ঠিক করে রাখতে পারবেন এর ব্যবহারকারীরা। পরে নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারকারীকে, তার পছন্দের গন্ধের মাধ্যমে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলবে সেন্সরওয়েক।

সেন্সরওয়েক নামের এই ঘড়িটি তৈরি করেছেন গুলিয়মে রোলান্ড নামের এক ফরাসী কিশোর। এটি তৈরির পেছনের কারণ হিসেবে রোলান্ড জানান, তিনি সকাল পছন্দ করেন না। এমনটা হয়তো আরও অনেকেই মনে করেন। তার প্রমাণ, ২০১৫ সালের শুরুতে কিকস্টার্টার ক্যাম্পেইন-এর মাধ্যমে আইডিয়াটির ২ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ।

কিন্তু প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল-ও যে একই ধারায় বিশ্বাসী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। প্রমাণ? আলোচিত এই সেন্সরওয়েক ‘গুগল সাকসেস ইঞ্জিন প্রোগ্রাম’-এর একটি অংশ। ভিন্ন ধারার এই অ্যালার্ম ঘড়িটি ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সফলভাবে মানুষকে জাগাতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন এর নির্মাতা।

এখনও বাজারে আসেনি সেন্সরওয়েক, বর্তমানে এর উৎপাদন চলছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট। ঘড়িটিতে নানা ধরনের সুগন্ধ যুক্ত করতে সুইস সুগন্ধী উৎপাদক শিভোদান-এর সঙ্গেও চুক্তিতে এসেছে সেন্সরওয়েক। চলতি বছরের মে মাসে বাজারে আসবে ঘড়িটি। সিইএস উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে ৮৯ ডলারে এবং বাজারে আসার পর ১০৯ ডলারের বিনিময়ে ঘড়িটি কিনতে পারবেন আগ্রহী ক্রেতারা।

নিরাপত্তা বাড়াতে নয়া পদ্ধতিতে ফেসবুকের অ্যাপ পরীক্ষার উদ্যেগ

নিরাপত্তা বাড়াতে নয়া পদ্ধতিতে ফেসবুকের অ্যাপ পরীক্ষার উদ্যেগ

সামাজিকগমাধ্যম ফেসবুক প্রতিনিয়ত নানা পরিবর্তন আনছে ফেসবুকে। এ কারণে ফেসবুকের অ্যাপগুলোও নানাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের বিভিন্ন অংশ ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে কি না, এ বিষয়টি জানার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অ্যাপগুলো ভেঙে পরীক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট।


সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে ফেসবুকের এ অ্যাপগুলো পরীক্ষার নতুন পদ্ধতির কথা জানা যায়। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের নন-ফাংশনাল ভার্সন ব্যবহার করে। এরপর ব্যবহারকারীরা এটি কিভাবে ব্যবহার করে তা দেখা হয়।
ফেসবুক অ্যাপটি ভেঙে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করে। এতে ব্যবহারকারীরা তা ব্যবহার করছে কি না, তাও জানা সম্ভব হয়। এতে দেখা যায়, অ্যাপটি ভেঙে দেওয়ার পরও ব্যবহারকারীরা তা ব্যবহার করে।

মূলত নতুন পরীক্ষাটি করা হচ্ছে গুগলের নির্ভরশীলতা কমানোর উপায় অনুসন্ধানে। গুগল প্লে স্টোর যদি অ্যাপটি ডিস্ট্রিবিউশনে কোনো সমস্যা করে তাহলে তা কিভাবে চালু রাখা যায় এ উপায় খোঁজা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে অ্যাপটির কোনো সমস্যা হলে ব্যবহারকারীরা ফেসবুক থেকে চলে যাবে নাকি অন্য কোনো উপায়ে ফেসবুক ব্যবহার করবে এ বিষয়টি জানার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা খুব একটা খারাপ নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যাপ ভেঙে গেলে কিংবা কাজের অনুপযোগী হয়ে গেলেও ব্যবহারকারীরা মোবাইল ভার্সনের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ফেসবুক ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে।

তবে ফেসবুকের এ পরীক্ষা খুব সামান্য ব্যবহারকারীদের ওপরই করা হয়েছে। এছাড়া এ পরীক্ষায় ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না বলেও জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগেও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এসব পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্য জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

ফেসবুকও আপনাকে ১০ দিক থেকে চরম বিপদে ফেলতে পারে!

ফেসবুকও আপনাকে ১০ দিক থেকে  চরম বিপদে ফেলতে পারে!




ফেসবুকের এমন ১০টা জিনিস জেনে নিন, যা আপনাকে সমস্যায় ফেলে।

১) ফেসবুক এসে যাওয়ায়, আপনার মিথ্যে কথা বলা ধরা পড়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। আপনি হয়তো বলেন যে, আপনি পড়াশোনা করছেন এখনও। অথচ, আপনার কোনও বন্ধু অফিস পার্টির ছবিতে আপনাকে ট্যাগ করে দিল। ব্যাস, আপনি ধরা পড়ে গেলেন! আপনি নিজে না হয় কিছু পোস্ট করলেন না। কিন্তু কেউ ট্যাগ করে দিলে আপনি জানবেন কীভাবে!

২) ফেসবুকে মানুষের সম্পর্ক বাড়ে, কমে। সম্পর্ক তৈরি হয়। ভাঙে। তাই যারা ফেসবুক বেশি ব্যবহার করে, তাদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা বাড়ছে, গবেষকরা এমনটাই বলছে।

৩) ফেসবুকের জন্য আপনি অনেক কপি রাইটের ঝামেলায় পড়ে যেতে পারেন। এমন অনেক ভিডিও থাকে। যেগুলোর কপিরাইট আছে। আপনি হয়তো না জেনেই কিছু শেয়ার করে ফেললেন। আসলে আপনি নিজের সমস্যা নিজেই ডেকে আনলেন!

৪) ফেসবুকে আপনি বেশি সময় কাটান, তাই ফেসবুকে তো আপনার বন্ধুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এতে আপনার বাস্তব জীবনের বন্ধুরা দূরে চেল যায়, যারা ফেসবুকে খুব একটা বসেন না! এটাও তো একটা সমস্যা।

৫) ফেসবুক বেশি ব্যবহার করলে আপনার শরীরের ক্ষতি হয়। কোনওকিছুই বেশি করা ভালো নয়। আর ফেসবুক তো একটা নেশার মতো। বেশি অনলাইন থাকা মানেই, কম ঘুম। কম বিশ্রাম। শরীর খারাপ তো হবেই।

৬) ফেসবুকের জন্য আপনার সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে যেতে পারে। আপনি হয়তো নিজের ছবি না দিয়ে অন্য ছবি ব্যবহার করেন। কিন্তু যেই মানুষ আপনাকে সামনে থেকে চিনে গেল, আপনার ইমেজে কিন্তু বড় ধাক্কা লাগবে।

৭) ফেসবুকের নেশা আছে যাদের, তাদের অনেকেরই আসল নেশা হল নিত্য নতুন গেমস। এগুলোর জন্য আপনার সব কাজ পণ্ড হতে পারে।

৮) ফেসবুকের জন্য অনেকেরই অবসাদ আসছে। এখানে নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। তেমনই সম্পর্ক নষ্টও তো হয়। তাই বাড়ে অবসাদ।

৯) এমনিতে আপনি হয়তো দুটো সম্পর্ক দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ফেসবুকে এসব করতে গেলে ঠিক ধরা পড়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে আপনার কোনও সম্পর্কই থাকবে না!

১০) চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছেন হয়তো। তাদের আপনাকে পছন্দ। কিন্তু মানুষ হিসেবে আপনি কেমন, এটা জানার জন্য তারা আপনার প্রোফাইল চেক করল। আর দেখল আপনি মদ খেয়ে পড়ে থাকার ছবিও পোস্ট করেছেন। ব্যাস গেল আপনার চাকরি!

ব্যাকআপ রাখুন ফেসবুকের পোস্ট,মেসেজ,ফটো এবং অন্যান্য তথ্য

ব্যাকআপ রাখুন ফেসবুকের পোস্ট,মেসেজ,ফটো এবং অন্যান্য তথ্য

অনেকের দেখাযায় ফেসবুক এ ২ টা ৩ টা বা তারও বেশি অ্যাকাউন্ট আছে।কেও যদি তার কোন ফেক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে চায় তাহলে সে ইচ্ছা করলে তার অ্যাকাউন্টটি ব্যাকআপ করে রাখতে পারে।
আপনাদের সুবিধার্থে ভিডিও টিউওটিরিয়াল দেওয়া হলো।


২০১৬ সালের ছুটির তালিকা নিয়ে নিন।

২০১৬ সালের ছুটির তালিকা নিয়ে নিন।
দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি অফিস এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ২০১৬ সালের ছুটির তালিকা-
সাধারণ ছুটি (পাবলিক হলিডে) :
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি-১ দিন;

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস, ১৭ মার্চ-১ দিন;
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ২৬ মার্চ-১ দিন; মে দিবস,
পয়লা মে-১ দিন;
*(চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল) বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখি পূর্ণিমা), ২১ মে-১ দিন
;
জুমাতুল বিদা, ১ জুলাই-১ দিন;
*ঈদুল ফিতর, ৬ জুলাই-১ দিন;
জাতীয় শোক দিবস, ১৫ আগস্ট-১ দিন;
শুভ জন্মাষ্টমী, ২৫ আগস্ট-১ দিন;
*ঈদুল আযহা, ১২ সেপ্টেম্বর-১ দিন;

দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ১১ অক্টোবর-১ দিন;
*ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.), ১২ ডিসেম্বর-১ দিন;
বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর-১ দিন;
যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন (বড় দিন), ২৫ ডিসেম্বর-১ দিনসহ মোট =১৪ দিন।

নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি :
নববর্ষ, ১৪ এপ্রিল-১ দিন;
*শবেবরাত, ২৩ মে-১ দিন;
*শবে কদর, ৩ জুলাই-১ দিন;

*ঈদুল ফিতর (ঈদের পূর্বের ও পরের দিন), ৫ ও ৭ জুলাই-২ দিন;
*ঈদুল আযহা (ঈদের পূর্বের ও পরের দিন), ১১ ও ১৩ সেপ্টেম্বর-২ দিন;
*আশুরা, ১২ অক্টোবর-১ দিনসহ মোট= ৮ দিন।

ঐচ্ছিক ছুটি (মুসলিম পর্ব) :
*ফাহেতা-ই-ইয়াজদাহম, ২২ জানুয়ারি-১ দিন;
*শব-ই-মিরাজ, ৫ মে-১ দিন;

*ঈদুল ফিতর (ঈদের পরের দ্বিতীয় দিন), ৮ জুলাই-১ দিন;
*ঈদুল আযহা (ঈদের পরের দ্বিতীয় দিন), ১৪ সেপ্টেম্বর-১ দিন;
*আখেরি চাহার সোম্বা, ৩০ নভেম্বর-১ দিনসহ মোট= ৫ দিন।

ঐচ্ছিক ছুটি (হিন্দু পর্ব) : সরস্বতী পূজা, ১৩ ফেব্রুয়ারি-১ দিন; শিবরাত্রি ব্রত, ৭ মার্চ-১ দিন; শুভ দোলযাত্রা, ২৩ মার্চ-১ দিন; হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ৫ এপ্রিল-১ দিন; শুভ মহালয়া, ৩০ সেপ্টেম্বর-১ দিন; দুর্গাপূজা (নবমী), ১০ অক্টোবর-১ দিন; লক্ষ্মীপূজা, ১৫ অক্টোবর-১ দিন; শ্যামাপূজা, ২৯ অক্টোবর-১ দিনসহ মোট= ৮ দিন।

ঐচ্ছিক ছুটি (খ্রিষ্টান পর্ব) : ইংরেজি নববর্ষ, পয়লা জানুয়ারি-১ দিন; ভস্ম বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি-১ দিন; পুণ্য বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ-১ দিন; পুণ্য শুক্রবার, ২৫ মার্চ-১ দিন; পুণ্য শনিবার, ২৬ মার্চ-১ দিন; ইস্টার সানডে, ২৭ মার্চ-১ দিন; যিশু খ্রিষ্টের জন্মোৎসব (বড় দিনের পূর্বের ও পরের দিন), ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর-২ দিনসহ মোট = ৮ দিন।

ঐচ্ছিক ছুটি (বৌদ্ধ পর্ব) : *মাঘী পূর্ণিমা, ২২ ফেব্রুয়ারি-১ দিন; চৈত্র সংক্রান্তি, ১৩ এপ্রিল-১ দিন; *আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ১৮ জুলাই-১ দিন; *মধু পূর্ণিমা (ভাদ্র পূর্ণিমা), ১৫ সেপ্টেম্বর-১ দিন; *প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা), ১৫ অক্টোবর-১ দিনসহ মোট= ৫ দিন।

ঐচ্ছিক ছুটি (বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের অনুরূপ উৎসব) : পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ও এর বাহিরে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের অনুরূপ সামাজিক উৎসব, ১২ এপ্রিল ও ১৫ এপ্রিল মোট = ২ দিন ।

এ তালিকায় ঘোষিত ছুটি সব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যে সব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান যথা-ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, ডাক, তার, টেলিফোন, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বা ব্যবসায়ী সংস্থা ও কলকারখানা ইত্যাদিতে অফিসের সময়সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে অথবা যে সব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকুরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক চাকুরি (এসেন্সিয়াল সার্ভিস) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এরূপ ছুটি আপনা-আপনি (অটোমেটিক্যালি) প্রযোজ্য হবে না। ঐ সব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব আইনকানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে তাদের ছুটি ঘোষণা করবে



কিভাবে বুঝবেন আলসার এবং গ্যাসট্রিক্স হয়েছে

কিভাবে বুঝবেন আলসার এবং গ্যাসট্রিক্স হয়েছে

আলসার এবং গ্যাসট্রিক্সকের লক্ষণ ও উপসর্গ
১. উদর বা তলপেটের উপরিভাগে অস্বস্তিবোধ কিংবা ব্যথা|
২. খাবারের প্রতি অভক্তি|
৩. বিতৃষনাবোধ|
৪. বুক জ্বলাপোড়া করা|
৫. বমি হওয়া|
৬. ঢেকুর ওঠা এবং গ্যাস হওয়া|
৭. কালো বা রক্তমিশ্রিত মল|

আলসার এবং গ্যাসট্রিক্স  হলে কী করা উচিত
১. যদি আপনার মনে হয় যে আলসার কিংবা গ্যাসট্রিটিস হয়েছে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
২. প্রচুর পরিমাণে পানি এবং অন্যান্য পানীয় পান করুন যাতে করে আপনার শরীর পানি শূন্যতায় আক্রান্ত না হয়, তবে দুধ জাতীয় পানীয় পান থেকে বিরত থাকুন, কেননা এগুলো এসিডের উৎপত্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৩. এন্টাসিড সেবন করুন।
৪. এ্যাসপিরিন ইবুপ্রুফেন এবং অন্যান্য ননস্টেরোয়ডাল এবং প্রদাহ-নিরোধোক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকুন।


আলসার এবং গ্যাসট্রিক্স  হলে কখন ডাক্তার দেখাবেন
১. যদি আপনার বমির সাথে রক্ত বের হয় কিংবা অন্য কিছু বের হয় যেটা দেখতে কফির পাতার গুড়োর মতো মনে হয়, সেক্ষেত্রে এটা হয়তো আপনার দেহাভ্যন্তরিণ রক্তপাতের লক্ষণ।
২. যদি আপনার মধ্যে আলসারের লক্ষণগুলো ধরা পড়ে এবং একই সাথে আপনার পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা হয়; সেক্ষেত্রে আলসার হয়তো আপনার পাকস্থলী কিংবা গ্রহণী বা ডুডেনামের দেয়াল ছিদ্র করে ফেলছে বা ক্ষত সাধন করছে।
৩. যদি আপনার জ্ঞান হারাবার মতো অবþহা হয়, ঠাণ্ডা লাগে, এবং স্যাঁতস্যাঁতে বোধ হয় এবং আপনি প্রকৃতই জ্ঞান হারান। এগুলো হয়তো প্রচুর রক্ত ক্ষরণের কারনে উদ্ভুত কিছু উপসর্গ।
৪. যদি আপনার আলসার থাকে এবং একই সাথে রক্তশূন্যতার লক্ষণগুলোও দেখা যায়, যেমন অবসাদগ্রস্ততা, গায়ের রঙ্গে মলিনতা; এক্ষেত্রে আলসার থেকে হয়তো রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
৫. যদি আপনার মলের সাথে গাঢ় লাল রক্ত বের হয়। কিংবা মলের রঙ রক্তাভ কিংবা কালো হয়।
৬. যদি আপনার পাকস্থলিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।
৭. যদি আপনার আলসার এবং গ্যাসট্রিটিসের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরেও অপসারিত না হয়।

আলসার এবং গ্যাসট্রিক্স  কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
১. আপনি যদি ধুমপায়ী হন তবে ধুমপান ছেড়ে দিন|
২. দৈহিক ও মানসিক চাপ থেকে স্বস্তি পেতে যা যা করণীয় করুন।
৩. যদি আপনার মদ বা এ্যালকোহল মিশ্রিত কোন পানীয় পান করার অভ্যাস থাকে তাহলে খুব কম পরিমাণে করবেন।
৪. এ্যাসপিরিন এবং ইবুপ্রোফেনের ব্যবহার যতোটা কমানো সম্ভব করুন।
৫. যেসব খাবার আপনার পাকস্থলিতে সমস্যা করে সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
৬. আলসার যাতে আবার না হয়, সে জন্যে যে যে ওষুধগুলো ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী আপনি আলসারের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সেবন করছেন সেগুলো সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সেবন করুন।

Signs and Symptoms
1. Pain or discomfort the upper part of the abdomen.
2. Loss of appetite.
3. Nausea.
4. Heartburn.
5. Vomiting.
6. Belching or gas.
7. Dark or bloody stools.
What to do now
1. Go to a doctor if you think you have a stomach ulcer or gastritis.
2. Drink lots of water and other liquids to prevent dehydration, but avoid milk, which can increase acid secretion.
3. Take antacids.
4. Avoid aspirin ibuprofen, and other non-steroidal anti-inflammatory drugs.

When to call a doctor
1. If you vomit blood or material that looks like coffee grounds; these symptoms indicate internal bleeding.
2. If you develop symptoms of an ulcer along with severe back pain; your ulcer may be perforating the stomach or duodenum wall.
3. If you feel faint, cold, and clammy, or you actually do faint. These may be symptoms of a shock, usually resulting from massive blood loss.
4. If you have an ulcer and develop symptoms of anemia, such as fatigue and pallid complexion; your ulcer may be bleeding.
5. If you pass stools that appear dark red, Bloody or black.
6. if you have severe stomach pain.
7. If you have symptoms of an ulcer or gastritis that last more than two weeks.

How to prevent it
1. If you smoke, quit.
2. Do what you can to reduce stress.
3. If you drink alcoholic beverages, do so in moderation.
4. Minimize use of aspirin and ibuprofen.
5. Avoid foods that upset your stomach.
6.To prevent an ulcer from recurring, carefully follow instructions for any ulcer drugs you are taking.

রোজা ও তার গুরুত্ব

রোজা ও তার গুরুত্ব

রমযনের রোযা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। ঈমান, নামায ও যাকাতের পরই রোযার স্থান। রোযার আরবি শব্দ সওম, যার আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। পরিভাষায় সওম বলা হয়-প্রত্যেক সজ্ঞান, বালেগ মুসলমান নর-নারীর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও রোযাভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং রমযান মাসের চাঁদ উদিত হলেই প্রত্যেক সুস্থ, মুকীম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং হায়েয-নেফাসমুক্ত প্রাপ্তবয়স্কা নারীর উপর পূর্ণ রমযান রোযা রাখা ফরয। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
(তরজমা) হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।-সূরা বাকারা (২) : ১৮৩
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন-
فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
(তরজমা) সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে।- সূরা বাকারা (২) : ১৮৫
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إذا رأيتم الهلال فصوموا وإذا رأيتموه فافطروا، فإن غم عليكم فصوموا ثلاثين،
وفي رواية : صوموا لرؤيته وأفطروا لرويته، فإن عم عليكم فاكملوا العدد.
যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোযা রাখবে আর যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোযা বন্ধ করবে। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন রোযা রাখবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১০৮০ (১৭-১৮)
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস এবং এ বিষয়ক অন্যান্য দলীলের আলোকে প্রমাণিত যে, রমযান মাসের রোযা রাখা ফরয, ইসলামের আবশ্যক বিধানরূপে রোযা পালন করা ও বিশ্বাস করাও ফরয।
তাছাড়া কোনো শরয়ী ওযর ছাড়া কোন মুসলমান যদি রমযান মাসের একটি রোযাও ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে তাহলে সে বড় পাপী ও জঘন্য অপরাধীরূপে গণ্য হবে। দ্বীনের মৌলিক বিধান লঙ্ঘনকারী ও ঈমান-ইসলামের ভিত্তি বিনষ্টকারী হিসেবে পরিগণিত হবে। হাদীস শরীফে ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ত্যাগকারী ও ভঙ্গকারীর জন্য কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।
হযরত আবু উমামা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
بينما أنا نائم أتاني رجلان فأخذا بضبعي فأتيابي جبلا وعرا فقالا : اصعد؛ فقلت : إني لا أطيقه. فقالا: سنسهله لك، فصعدت حتى إذا كنت في سواء الجبل إذا بأصوات شديدة، قلت : ما هذه الأصوات؟ قالوا هذا عواء أهل النار، ثم انطلق بي، فإذا أنا بقوم معلقين بعراقيبهم، مشققة اشداقهم، تسيل اشداقهم دما. قال : قلت : من هؤلاء : قال : الذين يفطرون قبل تحلة صومهم.
رواه الحاكم فى المستدرك وقال : صحيح على شرط مسلم، ووافقه الذهبي، وذكره الهيثمى فى المجمع (240)، وقال : رجاله رجال الصحيح
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম আমার নিকট দুই ব্যক্তি আগমন করল। তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে এল। তারপর আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ের উপর উঠুন। আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দিব। আমি উপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছালাম, হঠাৎ ভয়ঙ্কর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বললাম, এ সব কিসের আওয়াজ? তারা বলল, এটা জাহান্নামীদের আর্তনাদ। তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশী দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোযা ভেঙ্গে ফেলে।-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ১৯৮৬; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭৪৪৮; সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস : ৩২৮৬; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস-১৬০৯; তবারানী, হাদীস : ৭৬৬৬
রমযান মাসের একদিন রোযা না রাখলে মানুষ শুধু গুনাহগারই হয় না, ঐ রোযার পরিবর্তে আজীবন রোযা রাখলেও রমযানের এক রোযার যে মর্যাদা ও কল্যাণ, যে অনন্ত রহমত ও খায়ের-বরকত তা কখনো লাভ করতে পারবে না এবং কোনোভাবেই এর যথার্থ ক্ষতিপূরণ আদায় হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,
من افطر يوما من رمضان متعمدا من غير سفر ولا مرض لم يقضه ابدا، وان صام الدهر كله، ... وقد ذكره البخاري تعليقا بصيغة الجزم حيث قال : وبه قال ابن مسعود، وقال الشيخ محمد عوامه : وهذا الحديث موقوف لفظا ومرفوع حكما
যে ব্যক্তি অসুস্থতা ও সফর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে রমযানের একটি রোযাও ভঙ্গ করে, সে আজীবন রোযা রাখলেও ঐ রোযার হক আদায় হবে না।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৮৯৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস : ৭৪৭৬; সহীহ বুখারী ৪/১৬০
হযরত আলী রা. বলেন-
من افطر يوما من رضمان متعمدا لم يقضه أبدا طول الدهر.
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রমযান মাসের একটি রোযা ভঙ্গ করবে, সে আজীবন সেই রোযার (ক্ষতিপূরণ) আদায় করতে পারবে না।- মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৮৭৮
হাদীস শরীফে বর্ণিত রোযার কিছু ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য এখানে উল্লেখ করা হলো :
১. রোযার প্রতিদান আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজেই দিবেন এবং বিনা হিসাবে দিবেন
প্রত্যেক নেক আমলের নির্ধারিত সওয়াব ও প্রতিদান রয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমলকারীকে পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু রোযার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ রোযার বিষয়ে আছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এক অনন্য ঘোষণা।
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف، قال الله تعالى : الا الصوم فإنه لى وانا أجزى به يدع شهوته وطعامه من أجلى.
মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোযা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫১ (১৬৪); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৭১৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৯৮৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৬৩৮
অন্য বর্ণনায় আছে-
عن أبى هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : قال الله : يترك طعامه وشرابه وشهوته من أجلى، الصيام لى وانا اجزى به، والحسنة بعشر امثالها.
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে, রোযা আমার জন্যই, আমি নিজেই তার পুরস্কার দিব আর (অন্যান্য) নেক আমলের বিনিময় হচ্ছে তার দশগুণ।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৯৪; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৯৯৯; মুয়াত্তা মালেক ১/৩১০
রোযা বিষয়ে-অন্য বর্ণনায়-আললাহ তাআলা বলেন, ‘‘প্রত্যেক ইবাদতই ইবাদতকারী ব্যক্তির জন্য, পক্ষান্তরে রোযা আমার জন্য। আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব। (সহীহ বুখারী হাদীস-১৯০৪)
এ কথার তাৎপর্য হল, যদিও প্রকৃতপক্ষে সকল ইবাদতই আল্লাহর জন্য, তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। তবুও রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। তা হল-অন্যান্য সকল ইবাদতের কাঠামোগত ক্রিয়াকলাপ, আকার-আকৃতি ও নিয়ম পদ্ধতি এমন যে, তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য ছাড়াও ইবাদতকারীর নফসের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকে। মুখে প্রকাশ না করলেও অনেক সময় তার অন্তরে রিয়া তথা লোক দেখানো ভাব সৃষ্টি হতে পারে। তার অনুভূতির অন্তরালে এ ধরনের ভাব লুকিয়ে থাকে। তা সে অনুভব করতে না পারলেও তার ভিতরে অবচেতনভাবে বিদ্যমান থাকে। ফলে সেখানে নফসের প্রভাব এসে যায়। পক্ষান্তরে রোযা এমন এক পদ্ধতিগত ইবাদত, তার-আকার-আকৃতি এরূপ যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য ব্যতীত ইবাদতকারীর নফসের স্বাদ গ্রহণের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। রোযাদার ব্যক্তি নিজ মুখে রোযার বিষয়টি প্রকাশ না করলে সাধারণত তা আলেমুল গায়েব আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কারো নিকট প্রকাশিত হওয়ার মত নয়। তাই রোযার ক্ষেত্রে মাওলার সন্তুষ্টির বিষয়টি একনিষ্ঠভাবে প্রতিভাত হয়। একারণেই রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের মাঝে এরূপ বিস্তর ব্যবধান।
রোযার এত বড় ফযীলতের কারণ এটাও হতে পারে যে, রোযা ধৈর্য্যের ফলস্বরূপ। আর ধৈর্য্যধারণকারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার সুসংবাদ হল-
إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ
ধৈর্য্যধারণকারীগণই অগণিত সওয়াবের অধিকারী হবে।-সূরা যুমার (৩৯) : ১০
সব মাখলুকের স্রষ্টা, বিশ্বজাহানের প্রতিপালক, আল্লাহ তাআলা নিজেই যখন এর পুরস্কার দিবেন, তখন কী পরিমাণ দিবেন? ইমাম আওযায়ী রাহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন- আল্লাহ যে রোযাদারকে প্রতিদান দিবেন, তা মাপা হবে না, ওজন করা হবে না অর্থাৎ বিনা হিসাবেই দিবেন।